বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই সম্প্রচার শুরু হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি)। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এই বিচার সরাসরি দেখা যাচ্ছে।
জুলাই মাসে ছাত্রদের গণআন্দোলনের সময় নিরস্ত্র জনগণের ওপর গুলি চালানো, হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে এই ঐতিহাসিক বিচার সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
আজ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ১৩৪ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেন। এই প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের নিউক্লিয়াস। তিনি ছিলেন এসব অপরাধ সংগঠনের প্রাণভোমরা।”
এর আগে ১২ মে তদন্ত সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে যেখানে শেখ হাসিনাকে জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আজ সেই তদন্তের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হলো।
গত ২০ মে ট্রাইব্যুনালের বিচারকক্ষে ডিজিটাল সম্প্রচারের জন্য প্রযুক্তি স্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপরই অনুমতির ভিত্তিতে এই সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়। ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর।
আইনজীবীরা বলছেন, এই সরাসরি সম্প্রচার বিচারকার্যকে আরও স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তাঁরা এটিকে বিচার ব্যবস্থায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও দেখছেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজন প্রধান অভিযুক্ত হলেও, একই সঙ্গে হাসিনার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ক্যাডারদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। এদের মধ্যে অনেকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে আছেন এবং ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হচ্ছেন।

