সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে কোটি টাকার পাথর লুটপাটের ঘটনায় মামলা করেছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিএমডি মহাপরিচালক আনোয়ারুল হাবিব বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এজাহারে বলা হয়, সরকারি গেজেটভুক্ত ভোলাগঞ্জ কোয়ারি থেকে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অসংখ্য দুষ্কৃতিকারী অনুমোদন ছাড়া পাথর উত্তোলন ও লুট করেছে, যার বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা ২০১২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায়ও এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সম্প্রতি সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারি এলাকায় এ ধরনের লুটপাট ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর ও গোয়াইনঘাটের জাফলং থেকে পাথর লুটের ঘটনায় হাইকোর্ট প্রশাসনকে উদ্ধার করা পাথর যথাস্থানে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং লুটেরাদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে র্যাব, পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ বাহিনী সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী গত তিন দিনে জাফলং ও সাদাপাথর এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৪০ হাজার টন পাথরও রয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে সিলেটের জৈন্তাপুর থানাধীন আসামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-৯ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল প্রায় ৭ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে।
সরকারি সংস্থা বলছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোয়ারিগুলোতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলে আসছিল। এবার মামলা ও আদালতের নির্দেশনার পর বিষয়টিকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।

