নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ করেছেন গ্রাহকরা। একইসঙ্গে আগে স্থাপন করা প্রি-পেইড মিটার খুলে পোস্ট-পেইড মিটার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরীর কিল্লারপুল এলাকায় অবস্থিত ডিপিডিসি অফিসের সামনে ‘নাগরিক অধিকার ফোরাম’ এই সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম, রুহুল আমিন, রমজানুল রশিদ, এস এম সাজিম আহমেদ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো গার্মেন্ট শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েই বেতন পান না, কোনো রিকশাচালক গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়েই ভাড়া দাবি করেন না, তেমনি কোনো সেবা ব্যবহারের আগে তার বিল পরিশোধ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা এলাকায় মানুষের আপত্তির পরও প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে গ্রাহকরা এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের ৮০-৯০ ভাগ বাসিন্দাই শ্রমিক। তারা এক মাস কাজ করে পরের মাসে বেতন পান। বেতন পেয়ে দোকানের বাকি শোধ করেন। কিন্তু প্রি-পেইড মিটারে টাকা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল পরিশোধ করতে হবে, যা শ্রমজীবী মানুষের জন্য অসম্ভব। সমাবেশে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বলেন, ‘প্রি-পেইড মিটার হয়রানির নামান্তর।’
সমাবেশ শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল ডিপিডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন।
নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “আমরা ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের বলেছি, আপনারা প্রি-পেইড মিটার লাগানো বন্ধ করেন। বন্ধ করে আমাদের সঙ্গে বসে এর সুবিধা-অসুবিধা জানান। যদি সুবিধাজনক মনে করি, আমরা লাগাব। এই আলোচনার আগে জোর করে মিটার লাগাতে এলে গণপ্রতিরোধ করা হবে। প্রয়োজনে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ডিপিডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “তাদের দাবির বিষয়টি আমরা উচ্চপর্যায়ে জানাব। সেখান থেকে দেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করব।”

