সীমান্ত নিয়ে পাঁচদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। সোমবার (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় আয়োজিত এক বৈঠকে দুই দেশের নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
প্রতিবেশী দেশদুটির সীমান্ত উত্তেজনায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ জন নিহত এবং ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকের পর জানান, “উভয় পক্ষই খোলামেলা আলোচনার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোতে সম্মত হয়েছে। এটি উত্তেজনা প্রশমনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”
পুত্রজায়ার ওই বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেন। পূর্বে শনিবার (২৬ জুলাই) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি দুই দেশের সরকারপ্রধানকে স্পষ্ট করে দিয়েছি—যুদ্ধ না থামালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা বন্ধ করে দেবে।”
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ট্রাম্প এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। আমি শান্তির প্রেসিডেন্ট হতে পেরে গর্বিত।”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের, যাতে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও নজরদারি করা যায় এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত হয়।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন, “থাইল্যান্ডের সঙ্গে আস্থা ও সহযোগিতা পুনর্গঠনের এখনই সময়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেই আশা করছি।”
থাইল্যান্ডের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাই মন্তব্য করেন, “এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।”
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট এক্সে লিখেছেন, “এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হোক!”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম সংঘর্ষ থামাতে। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করেছে।”
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার মধ্যকার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ। চলতি বছরের মে মাসে ছোট একটি সীমান্ত এলাকা নিয়ে গোলাগুলিতে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন।
পরবর্তীতে স্থলমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। সাময়িক সমঝোতার পরও সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা ও বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
তবে এই সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের এই উত্তপ্ত সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


