গাজা উপত্যকায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ও খাদ্য সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সেই শিশুরা খুবই ক্ষুধার্ত দেখাচ্ছে… এটি সত্যিকারের দুর্ভিক্ষ।”
সোমবার স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের সময় এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজায় ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করার অভিযোগকে “নির্লজ্জ মিথ্যাচার” বলে উড়িয়ে দেন।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না নেতানিয়াহু কী বলছেন, কিন্তু সেই শিশুরা সত্যিই দুর্ভিক্ষে আছে।”
জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, গাজায় দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে “অসাধারণ মাত্রার খাদ্য সহায়তা” প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইসরায়েল যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন বিমান থেকে খাদ্য ফেলা ও সাময়িক সামরিক বিরতি—তা ভালো শুরু, কিন্তু যথেষ্ট নয়।
“বর্তমানে যা পৌঁছাচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একফোঁটা মাত্র,” বলেন তিনি বিবিসি রেডিওকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রবিবার সতর্ক করেছে যে, গাজায় অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হার জুলাইয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন অপুষ্টিতে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে জুলাই মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের।
নেতানিয়াহুর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, “গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই, আর এমন কোনো নীতিও নেই।”
তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে মানবিক সহায়তা ঢুকতে দিয়েছি। না হলে গাজাবাসী বলে কিছুই থাকত না।”
তিনি জাতিসংঘকে দোষারোপ করে বলেন, “তোমরা আর অজুহাত দেখাতে পারো না। কাজ করো, মিথ্যা বলা বন্ধ করো।”
তবে নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তদন্তেও হামাসের পক্ষ থেকে নিয়মিত সাহায্য চুরি করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ইসরায়েল আগে দাবি করে আসছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি ও হতাহতের হিসাব
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রোববার জানিয়েছে, গাজায় তিনটি অঞ্চলে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার “স্থানীয় কৌশলগত বিরতি” কার্যকর করা হবে এবং নিরাপদ রুট তৈরি করে দেওয়া হবে যাতে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে।
জাতিসংঘ বলছে, ওই সময়ের মধ্যে তারা ১০০-এর কম ট্রাক খাদ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০টি ট্রাক প্রবেশ করত।
ফ্লেচার জানান, রোববার ঢোকা অনেকগুলো খাদ্যবাহী ট্রাক পথেই লুট হয়ে গেছে। “ক্ষুধার্ত মানুষজন ট্রাক থামিয়ে ময়দা নিয়ে গেছে। এটি আমাদের চালকদের জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।”
হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, অপুষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপুষ্টিজনিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে, যাদের মধ্যে ৮৮ জনই শিশু।
এছাড়া সোমবার স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ত্রাণের অপেক্ষায় ছিলেন।
ইসরায়েল ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ১২০০ জন ইসরায়েলি নিহত ও ২৫১ জন অপহৃত হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, অভিযানের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯,৮২১ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।

