মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

দেশের আমলাতন্ত্র থেকে ‘কর্তৃত্ববাদী ভূত’ দূর করতে একটি স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার সংলাপের ২০তম অধিবেশনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. তাহের বলেন, “আমরা এমন একটি পিএসসি চাই, যা হবে স্বচ্ছ, মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ—যাতে কোনো ‘স্বৈরাচারী ভূত’ আর প্রশাসনে রাজত্ব করতে না পারে।”

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক যোগ্য তরুণ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বা চাকরি হারিয়েছেন, যার ফলে রাষ্ট্রেরই ক্ষতি হয়েছে।

ডা. তাহের আরও বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে পিএসসি নিয়ে কোনো আপস নেই। যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এখনও প্রশাসনে নিয়োগ কখনো কখনো একটি ‘নোটের’ মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এটি দুর্নীতির জায়গা তৈরি করে দেয়।”

তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি সংবিধানসম্মত স্বাধীন পিএসসি, যাতে কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রভাব না থাকে।”

এদিন সকালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ পিএসসি ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক জেনারেল (সিএজি), এবং ন্যায়পাল (ওম্বাডসম্যান)–এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

এ বিষয়ে ডা. তাহের বলেন, “অধিকাংশ দল এই সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে চায়। কারণ, কেবল আইন করে এগুলোকে রক্ষা করা গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সরকার সহজেই তা পরিবর্তন করতে পারে।”

বিএনপির ওয়াকআউট প্রসঙ্গে মন্তব্য করে জামায়াত নেতা বলেন, “পুরো আলোচনা বর্জন না করে তারা আবার ফিরে এসেছে, এটিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। এখানে আমরা দল নয়, রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছি।”

নির্বাচন নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, “জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত, তবে আমরা সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত দেখতে চাই।”

তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নিলে জামায়াতের ইশতেহারে প্রথম অঙ্গীকার হবে ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা।

Share.
Exit mobile version