মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (৩০ জুলাই) কপার বা তামার ওপর সীমিত আকারে আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই শুল্ক কাঁচা বা পরিশোধিত কপার ধাতুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, বরং প্রযোজ্য হবে আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ওপর।
ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে কপার বাজারে প্রভাব পড়ে—যেখানে মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। কারণ শুল্ক আরোপের গুজব ছড়ানোর পরই চলতি মাসের শুরুতে কপার প্রতি পাউন্ডের দাম রেকর্ড ৫.৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
চিলি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কপার উৎপাদক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সরবরাহকারী, এই ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
চিলির রাষ্ট্রীয় খনিশিল্প প্রতিষ্ঠান কোডেলকোর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্সিমো পাচেকো সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, উচ্চমানের কপার ক্যাথোডে (পরিশোধিত কাঁচামাল) শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। ফলে আমরা আগের মতোই মার্কিন বাজারে সরবরাহ চালিয়ে যেতে পারব।”
চিলি বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হওয়া মোট কপারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ উৎপাদন করে এবং দেশটির মোট জিডিপির ১০–১৫ শতাংশ এই খাত থেকে আসে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় কপার আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, যার ৪৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ সরবরাহ করে চিলি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গাড়ি ও কপারজাত পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক একত্রে প্রযোজ্য হবে না। যদি কোনো পণ্য উভয় ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে, তবে কেবল গাড়ির শুল্কই কার্যকর হবে।
এই তথাকথিত “শুল্ক স্তরায়ন” না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে। এর ফলে বাজারে কপার ক্রয়ের হিড়িকও থেমে এসেছে।
হোয়াইট হাউস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই শুল্ক আরোপকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র এখন বিপজ্জনকভাবে আধা-প্রক্রিয়াজাত কপার ও কপার-নির্ভর পণ্যের আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববাজারে ভারসাম্যহীনতার ফলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কপার রপ্তানি নিষিদ্ধ করার জন্য হোয়াইট হাউস ১৯৫০-এর দশকের ঠান্ডা যুদ্ধকালীন ‘প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিধি (Defense Production Act) আইনের আওতায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত কপারকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে আমদানি নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে কাঁচা ধাতু বাদ পড়ায় স্বল্প মেয়াদে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

