কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ঠিকাদারি কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার পরও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রীন টেক কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ইনস্টিটিউটের সহকারী প্রকৌশলী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে অসাধু উপায়ে একজন ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে কাজ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ০৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বরাবর এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে কাজের বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগের একটি অনুলিপি দেওয়া হয় বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের কাছে।
অভিযোগপত্রে গ্রীন টেক কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার ওপেনিংয়ের সময় আমরা সকল শর্ত পূরণ করে সর্বনিম্ন দরদাতা বিবেচিত হই। কিন্তু আমাদের সাথে চুক্তি না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে কালক্ষেপণ করে গোপনে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অত্র কাজের দরপত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবং উদ্ধৃত দরের ১০ শতাংশ কম দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার পরও কোনো কারণ ছাড়াই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল অমান্য করে অযোগ্য করা হয়েছে। বিপরীতে বেশি দরে কাজ দেওয়া হয়েছে অন্য ঠিকাদারকে। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তার কোনো সঠিক জবাব দেওয়া হয়নি।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো জবাব না পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি অভিযোগ করেছেন গ্রীন টেক কর্পোরেশনের সিরাজুল ইসলাম।
অভিযোগে তিনি জানান লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অতঃপর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অত্যন্ত রুঢ়, অপমানজনক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন “আপনারা কাজ পাবেন না, আমরা যাকে ইচ্ছা তাকে কাজ দেই। অভিযোগ দিয়েছেন, এখন বসে থাকেন। যেখানে খুশি যান, যা ইচ্ছা করেন।”এমনকি তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন।
এছাড়া অফিসে প্রবেশ করতে না দেওয়া, কর্মকর্তাদের অযৌক্তিক আচরণ এবং একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও কোনও প্রকার দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা প্রমাণ করে যে অফিস প্রধানও উপরিউক্ত বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং তিনিও এই অনিয়মের সাথে জড়িত ।
টেন্ডারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান মহাপরিচালক টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দিয়েছেন।
আবেদনে বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দোষীদের বিরূদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দরপত্র আহ্বানকারী কর্মকর্তা ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রউফ তালুকদার।
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদারের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কাজের চুক্তির বিষয় ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে অভিহিতকরণ করি কিন্তু গ্রীন টেক কর্পোরেশন ০৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগ দেয় এবং মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছে। এখন গ্রীন টেকের অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে আছে, এই বিষয়ে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিবে। তিনি বিস্তারিত বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

