রাজধানীর ইন্দিরা রোডে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় একই পরিবারের দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা সবাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরানের সহযোগী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
এই ঘটনায় গুরুতর আহত ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা আঞ্জুমান আরা লতিফের মেয়ে নাদিয়া লতিফবাদি হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার মামলার এজাহারে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে গলির ভেতর গাড়ি ঠিক করা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে করে আসাদুজ্জামান খান ওরফে বাবু, টিটু, কামালসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রসস্ত্রসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান শুভর ওপর হামলা করে।
হামলায় শুভ গুরুতর আহত হলে তার বৃদ্ধা মা আঞ্জুমান আরা ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে। সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপরেও চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে। ওই বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার মেয়ে নাদিয়া লতিফ এগিয়ে আসে। সন্ত্রাসীরা তাকেও এলোপাথাড়ি মারধর করে এবং তার শরীর থেকে মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এসময় তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা মটরসাইকেলে চড়ে পালিয়েযায়।
ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে দফায় দফায় মিছিল করে ও তাদের বাড়িঘর ঘিরে রাখে। এসময় আওয়ামী লীগ পতনের এতো মাস পরেও কিভাবে দলটির চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনী এলাকায় এভাবে প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তার করছে তা নিয়ে প্রশাসনের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখায় তারা।
পুলিশ এসে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যতো দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতরা ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় দায়রকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ–পরিদর্শক এসআই রাকিব জানান, হামলাকারীরা সবাই এলাকার পলাতক কাউন্সিলর ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাদের বিরেুদ্ধে অতীতেও চাঁদাবাজিসহ থানায় বিভিন্ন অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড, পূর্ব ও পশ্চিম–রাজাবাজারসহ এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ত্রাসী বাবু–টিটু–কামাল গং এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সহযোগী ফরিদুর রহমান খান ইরানের ক্যাডার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত ভীত–সন্ত্রস্ত থাকতো। এলাকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, সন্ত্রাসী বাবু–টিটু বাহিনীর হাতে নির্যাতিত অনেক ব্যবসায়ীকে ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে ব্যবসা–বাণিজ্য গুটিয়ে চলে যেতে হয়েছিল।

