অজৈব পদার্থ থেকে জীবনের জন্ম কীভাবে ঘটেছিল, তা আজও বিজ্ঞানের এক গভীর রহস্য। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়াগোর (University of California San Diego) একদল গবেষক। তারা প্রথমবারের মতো এমন একটি কৃত্রিম কোষ তৈরি করেছেন, যেখানে কোষপ্রাচীর তৈরির পাশাপাশি দেখা গেছে বিপাক বা মেটাবলিজমের কার্যকলাপ। এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Nature Chemistry পত্রিকার জুন ২০২৫ সংখ্যায়।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী নিল দেবারাজ বলেন, জীবন্ত কোষে বিপাকই কোষকে বেঁচে থাকতে, পরিবর্তিত হতে ও বিভাজিত হতে সহায়তা করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, প্রাক-জৈবিক পৃথিবীতে আরও জটিল জীববিজ্ঞানের আগে কি অতি সরল রাসায়নিক ব্যবস্থা থেকেই বিপাক সম্ভব ছিল?
গবেষণায় দেখা যায়, লিপিড নামক চর্বিজাত উপাদান ব্যবহার করে একটি চক্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একটি রাসায়নিক জ্বালানির সাহায্যে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড ও লাইসোফসফোলিপিড যুক্ত হয়ে ফসফোলিপিড তৈরি করে, যা নিজেরাই কোষঝিল্লি গঠন করে। আবার জ্বালানি না থাকলে এই ঝিল্লি ভেঙে পূর্বের উপাদানে ফিরে যায়। গবেষকরা বলছেন, এটাই একটি পূর্ণ রাসায়নিক চক্র, যা জীবনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি অনুকরণ করে।
প্রথম লেখক আলেসান্দ্রো ফ্রাকাসি বলেন, আমরা জানি জীবন্ত কোষে কী কী থাকে, কিন্তু সব উপাদান একত্র করলেই জীবনের বৈশিষ্ট্য আসে না। সেটাই বোঝার চেষ্টা চলছে যে কীভাবে সরল কিছু দিয়ে ধাপে ধাপে একটি কার্যকর কোষ তৈরি সম্ভব।
এই গবেষণার তাৎপর্য শুধু তাত্ত্বিক নয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের কৃত্রিম কোষ ওষুধ পরিবহন, জৈব প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, দূষণমুক্তকরণ, এমনকি পরিবেশ বান্ধব সেন্সর তৈরির ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।
দেবারাজ বলেন, “হয়তো এসব প্রযুক্তি ১০-২০ বছরের মধ্যে দেখা যাবে না। কিন্তু এর ভিত রচনায় আমাদের এখন থেকেই কাজ করতে হবে।”
গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ২২ মে ২০২৫ তারিখে Nature Chemistry-তে, যেখানে আরও যুক্ত ছিলেন আন্দ্রেস সিওয়ানে, রবার্তো ব্রিয়া, হং-গুয়েন লি, আলেক্সান্ডার হারইয়াং এবং নিল দেবারাজ।

