ইউটিউব ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গান রিলিজ করে এতো অল্প সময়ে তারুণ্যের ক্রেজে পরিণত হওয়ার নজীর নেই। কথা আর গান দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সহজ কথা নয়। অল্প সময়েই এই অসাধ্য সাধন করেছেন একজন উদীয়মান সঙ্গীতশিল্পী। যার কথা বলছি, তিনি প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীতপরিচালক তাফসির স্মরণ। অল্প কিছু গানের মাধ্যমেই সময়ের ক্রেজে পরিণত হয়েছেন এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার।
রাতারাতি খ্যাতি ও তারকার মর্যাদা পাওয়া সংগীতশিল্পী স্মরণ কয়েকটি গান ও মিউজিক ভিডিও নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর দারুণ উদ্দীপ্ত ও আশাবাদী। বিশেষ করে ‘আমার লাগি তোমার বাড়ি গোলাপও লাগাইয়ো’, ‘তোমার প্রেমের পথিক প্রেমী’, ‘না হয় মুখের মেলা’, ‘সাধের পাখি’, ‘ভালোবাসি’, ‘ধোয়ার লগে উড়াইয়া দাও’, ‘সখীর প্রেমে পাগল হয়েছি’, ‘আমি বলবো কি আর তারে’, ‘আমার লাগি তোমার বাড়ি’, ‘পুড়ছে পাখি পুড়তে দাও’, ‘শুধু একটা মানুষ চাই’, ‘কন্যা আমার মন বোঝেনা’ গানগুলো দিয়ে শ্রোতারা বিভিন্ন কন্টেন্ট, রিলস ও মিউজিক ভিডিও বানাচ্ছেন।
স্মরণের ‘আমার লাগি তোমার বাড়ি গোলাপও লাগাইয়ো (সোনার তরী)’ গানটি ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বর্তমানে গানটি ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) ভিউ ছাড়িয়েছে। একজন উদীয়মান কণ্ঠশিল্পীর জন্য এটি একটি মাইলফলক।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিল্পী স্মরণ একটি আকাঙ্খিত নাম। তাঁর গানগুলো স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, ইউটিউব মিউজিকের মতো আন্তর্জাতিক মিউজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ভালো গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে নিয়মিত নতুন গান ও ভিডিও রিলিজ হচ্ছে।
স্মরণ শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবে হৃদয়গ্রাহী গানের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেননি। সামাজিক অসঙ্গতি, অনাচার, সন্ত্রাস ও নির্যাতনের বিপক্ষেও তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর গানগুলোতে ভালোবাসা, প্রেম, বিরহ, বিচ্ছেদ ও আবেগের কথা উঠে আসে, যা শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ক্লাসিক, রোমান্টিক ও ভাববাদী সব শাখায় কাজ করছেন তিনি। মানুষ ও মানবতার জয়গান এই শিল্পীর গানে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি সাড়া জাগালেও স্মরণের গান নিয়ে সাধনা অনেক দিনের। সাধনায় নিজেকে খাঁটি সোনা হিসেবে গড়ে তোলার পরই এসেছেন শ্রোতাদের সামনে। তারকা খ্যাতি পাওয়া শুরুতে বেশ কঠিন ছিল এই শিল্পীর জন্য। পরিবার থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাননি, তেমনি জেলা শহরে রেকর্ডিং স্টুডিও ছিল না। কাজের জন্য বারবার আসতে হয়েছে রাজধানীতে। সময়ের পরিক্রমা ও নিজের অধ্যবসায়ে আজ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন এবং আলো ছড়াচ্ছেন।
তবে এই গুণী শিল্পী বলেন, “শৈশব থেকেই গান ছিল নেশা। গান শুনতে শুনতেই বড় হয়েছি। গান আমার ভেতরে এক অদৃশ্য আনন্দের জন্ম দিত, যা আমাকে অন্যরকম আবেগে ভরিয়ে রাখত। স্কুলজীবনে গানের প্রতিযোগিতায় অনেক পুরস্কার পেয়েছি। তখন থেকেই সংগীতের বীজ বপিত হয়েছিল। আমি নিজেকে এখনো সম্পূর্ণ মনে করি না। প্রতিদিন চেষ্টা করছি নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তোলার। আমার বিশ্বাস, শেখার কোনো শেষ নেই, মানুষ বেঁচে থাকা পর্যন্ত শেখার পথে চলতে থাকে। আমি চাই, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জ্ঞান ও উৎকর্ষতা অর্জনের এ যাত্রা চালিয়ে যেতে।”
তরুণরা যেমন উন্মাতাল স্মরণকে নিয়ে; পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজন, শুভাকাঙ্খী সবাই বেজায় খুশি সময়ের এই ক্রেজের সাফল্যে।

