সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)-এ দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ রহমান এবং তার সহযোগী ইঞ্জিনিয়ার নুরু ইসলাম বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখছেন।
সূত্র জানায়, ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অনেক কর্মকর্তা ট্রুথ কমিশনের মুখোমুখি হন। সে সময় এ.কে.এম আজাদ রহমান-এর নামও আলোচনায় আসে বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি প্রশাসনে ফিরে এসে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক তার অবস্থানকে শক্ত করেছে। বিশেষ করে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি নিয়ে নানা কথা শোনা যায়।
দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, কথিত সিন্ডিকেটটি তিনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে—বদলি বাণিজ্য, প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থপাচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চপদে নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে সুবিধা আদায়, টেন্ডার ও প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশ সফরের অনুমোদনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি করা হয়। এসব ক্ষেত্রে এ.কে.এম আজাদ রহমান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন এবং নুরু ইসলাম প্রশাসনিক সহায়তা দেন বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়া গত কয়েক মাসে একাধিক কর্মকর্তার বিদেশ সফরের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে এসব সফর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, অভ্যন্তরীণ সূত্রের অভিযোগ—এসবের মাধ্যমে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান-এর সময়েও একাধিক পদায়ন ও বদলি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ জোনে পুনঃপদায়ন করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে ঢাকা জোনে পদায়ন নিয়েও অভ্যন্তরীণভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঠিকাদার সংকট ও প্রকল্প বিলম্বকে কেন্দ্র করে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে অচলাবস্থা তৈরি হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যায়।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করা হয় এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা না হয়, তবে প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

