মঙ্গলবার | মার্চ ৩ | ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট আপত্তি ও কূটনৈতিক উদ্বেগ উপেক্ষা করে, ভারত এখনো অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্তপথে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ায়ার জানায়, গত ২৫ মে রোববার, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে প্রায় ১৬০ জন অনিবন্ধিত বাংলাদেশিকে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে আগরতলায় আনা হয়। তাদের পরে স্থলপথে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

এই ঘটনাটি নতুন নয়। ৪ মে গুজরাট থেকে আটক প্রায় ৩০০ জন বাংলাদেশিকেও একইভাবে বিমানযোগে আগরতলায় আনা হয় এবং সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘অনুপ্রবেশ বিরোধী অভিযান’ জোরদারের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় দেশটির একাধিক সূত্র।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ৮ মে ভারতের কাছে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ লঙ্ঘন এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের আহ্বান, প্রত্যাবাসনের স্বাভাবিক ও সম্মানজনক প্রক্রিয়া মেনে চলা হোক।

২৬ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স ডিরেক্টরেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “সীমান্তে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত ফল পেতেই তারা ‘পুশব্যাক’ পন্থা বেছে নিচ্ছেন। আটককৃতদের বায়োমেট্রিক্স সংগ্রহ করে তাদের নামে থাকা আধার কার্ডসহ ভারতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করা হচ্ছে এবং কালো তালিকায় রাখা হচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি সুবিধা না পায়। পরে তাদের বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তপথে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সরকার আশঙ্কা করছে, এইভাবে অনিয়ন্ত্রিত ও একতরফা ‘পুশব্যাক’ চালিয়ে গেলে শুধু মানবিক সঙ্কটই নয়, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের চির ধরতে পারে।

Share.
Exit mobile version