কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামে ধরলা নদীর তীরে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধটির ৩০ মিটার অংশে একের পর এক সিসি ব্লক দেবে যাওয়ায় আশপাশের সহস্রাধিক পরিবার ও কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁধ তাদের জীবনের নিরাপত্তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক ধসে সেই ভরসাই এখন বিপর্যয়ের আশঙ্কা ডেকে এনেছে। কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এই বাঁধ আমাদের রক্ষার কবচ। ধসে গেলে পুরো গ্রাম তছনছ হয়ে যাবে। ২০২২ সালের বন্যার ক্ষতি এখনও সামলে উঠতে পারিনি। এবার যদি বাঁধ ভেঙে যায়, আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।”
অন্য এক কৃষক আব্দুল হোসন অভিযোগ করে বলেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। পর্যাপ্ত সিসি ব্লক ফেলা হয়নি, ফলে স্রোতের চাপ সহ্য করতে পারছে না। তার আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এক ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসবে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দাবি করছে, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে। কুড়িগ্রাম পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, “উজানে চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ বদলে গেছে। প্রবল স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে, এজন্যই ধস দেখা দিয়েছে। পানি কমলেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে।”
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্প এলাকায় রংপুরের ঠিকাদার হাসিবুল হাসান কাজ করেছেন। তবে এখনো কাজের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর হয়নি। “বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে,” তিনি বলেন।
২০২০ সালে প্রায় ৬২৯ কোটি টাকার ব্যয়ে ‘ধরলা প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়। এর আওতায় ২০ কিলোমিটারের বেশি নদীতীর সংরক্ষণ, প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হয়। পাউবো দাবি করছে, এরই মধ্যে ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ২২ হাজার পরিবার, ৫০টি হাট-বাজার, ৩০টি নৌ-ঘাট ও ১০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি বন্যার কবল থেকে সুরক্ষা পেয়েছে।
কিন্তু সারডোব গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস নতুন করে প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবারও একই দুর্যোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

