উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সারাদেশে শুরু হয়েছে টানা ভারী বর্ষণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বৃষ্টিপাত আরও কমপক্ষে পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা দেশের জনজীবনে চরম দুর্ভোগ এনেছে। নিম্নচাপের প্রভাবে ইতোমধ্যেই রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের কিছু নদীর পানি বেড়েছে।
বর্তমানে স্থল নিম্নচাপটি উড়িষ্যা ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করলেও এর প্রভাবে সৃষ্ট মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশে সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর জেরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, শুক্রবার র (০৩ অক্টোবর) ভারী বর্ষণ থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের খবর আসছে উপকূলীয় এলাকা থেকে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, নজরুলপাড়া ও কোনাপাড়া এলাকার কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্বীপের একমাত্র স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জল নিষ্কাশন হচ্ছে না। সমুদ্র উত্তাল থাকায় গত দুই দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সব ধরনের নৌ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নিম্নচাপের কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেনী জেলার মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও লালমনিরহাট, নীলফামারী, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের আট বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে ভারী বর্ষণ এবং সম্ভাব্য প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশালের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

