জুলাই সনদকে “জাতির সঙ্গে একটি বাধ্যতামূলক সামাজিক চুক্তি” হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই ঐক্যমতের দলিল অমান্য করার সাহস কোনো রাজনৈতিক দল দেখাবে না।
বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (এনসিসি) আয়োজিত দ্বিতীয় দফার সংলাপের ২২তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে চা বিরতির সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই সনদ একটি স্বচ্ছ, সম্প্রচারিত জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নয়—জাতি, জনগণ ও সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে একটি ঐকমত্য। এটি একটি জাতীয় সামাজিক চুক্তি, যা ভবিষ্যৎ জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সনদের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরির দাবি তোলার প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, “এই পুরো প্রক্রিয়া ছিল একটি উন্মুক্ত আদালতের মতো, যেখানে জাতি প্রত্যক্ষ করেছে কে কী বলেছে। সনদের খসড়া তৈরি হয়েছে জনগণের সামনে, এবং এতে প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের প্রধান, জাতীয় নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর রয়েছে। এই অবস্থায় কেউ এটিকে অস্বীকার করবে, এমনটা আমি মনে করি না।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি নির্ভুল প্রতিফলন। এই অভ্যুত্থান থেকেই জাতি নতুন করে গণতন্ত্রের ভিত্তি নির্মাণ করেছে, যার রূপরেখা হলো এই সনদ।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরচারী শেখ হাসিনার দেড় দেশকব্যাপী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় জাতীয় সংলাপ। এর ভিত্তিতেই প্রণীত হয় ‘জুলাই সনদ’, যা একটি সর্বজনস্বীকৃত রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


