ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে দক্ষিণে জোরপূর্বক সরিয়ে দিতে গাজা নগরীতে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শনিবার এক ঘোষণায় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে বাসিন্দাদের জন্য তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়সামগ্রী বিতরণ করা হবে, যদিও কখন থেকে গণউচ্ছেদ শুরু হবে তা স্পষ্ট করেনি।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পদক্ষেপ নতুন করে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, গাজায় এখন কোনো এলাকা নিরাপদ নয়, দক্ষিণেও বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে।
শনিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ গাজার আল-মুয়াসি এলাকায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও তার পরিবারও রয়েছে। অথচ ওই এলাকাকে ইসরায়েল আগে ‘মানবিক জোন’ ঘোষণা করেছিল। স্থানীয়রা বলছে, তারা বারবার প্রতিশ্রুত নিরাপদ এলাকায় থেকেও হামলার শিকার হচ্ছে।
এছাড়া খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ অন্তত ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে সেনারা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরোধ ও অনাহারে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ১১ জন মারা গেছে, এর মধ্যে শিশু রয়েছে। শুধু খাদ্যাভাবজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা এখন ২৫১।
গাজা নগরীর জেইতুন এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকে রয়েছে, যাদের কাছে খাবার-পানি নেই। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, “এখানে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, মানুষ খাদ্য, পানি এবং মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।”
অঞ্চলে টানা বিমান হামলা, ট্যাংকের গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় বাসিন্দারা রাতদিন আতঙ্কে কাটাচ্ছে।
জাতিসংঘ বলছে, আশ্রয়সামগ্রী পাঠানো ইতিবাচক হলেও গণউচ্ছেদ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করবে। ইতোমধ্যেই আল-মুয়াসি, নুসাইরাত ও বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন, এই স্থানগুলোও আসন্ন অভিযানের টার্গেটে রয়েছে।
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ সংগঠন এই পরিকল্পনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক কনভেনশনের প্রকাশ্য উপহাস’ বলে অভিহিত করেছে।
অভ্যন্তরীণভাবে ইসরায়েলেও অসন্তোষ চরমে উঠেছে। রবিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও বিশ্ববিদ্যালয়-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার আশঙ্কা করছে, গাজা নগরীতে নতুন আক্রমণ তাদের প্রিয়জনদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলবে। বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মিদের মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত রয়েছে।
গাজা নগরীতে নতুন করে সামরিক অভিযান ও গণউচ্ছেদ পরিকল্পনা ইসরায়েলি যুদ্ধনীতির নতুন অধ্যায়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এটি কেবল নতুন গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের পথ খুলে দেবে। একদিকে গাজায় ক্ষুধা, মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ; অন্যদিকে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের উত্থান—দুই ক্ষেত্রেই বর্তমান যুদ্ধ যে অচলাবস্থায় পৌঁছেছে, সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

