সোমবার | মার্চ ২ | ২০২৬

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সংকটগুলোর সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই স্মরণ’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমাদের সমস্যাগুলোকে ধীরে ধীরে সমাধান করবে। কোনো বৈপ্লবিক ঘটনা নয়, ধৈর্য ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই বদল আসবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে সহনশীলতার অভাব রয়েছে, যা আমাদের নিজেরই তৈরি। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করছি, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার।”

তিনি মনে করেন, প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কারণেই দেশে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। “প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন সহজ কাজ নয়, সময় লাগবে, ধৈর্য ধরতে হবে,” বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গত বছরের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা একটি বিভীষিকাময় সময় পার করেছি। সেই সময় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়, ১ হাজার ৭০০ জন গুম হন। এখনো অনেক মামলা ঝুলে আছে।”

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “হত্যার শুরুটা কিন্তু আরও অনেক আগেই—১৫-১৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র ধ্বংস ও একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা হয়েছে।”

ফখরুল বলেন, “আমরা ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন শুরু করি। সেদিন অফিসের সামনে সভা করতেই দেয়নি পুলিশ, গুলি ছুঁড়েছে, শহীদ হয়েছেন একজন যুবক।”

তিনি বলেন, “২০১৬ সালে খালেদা জিয়া যে ভিশন-২০৩০ দিয়েছিলেন, সেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোই ছিল। সেই দিকেই সংস্কারের কাজ এগোচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে মতবিরোধ থাকবেই। রাজনৈতিক দলগুলো সব বিষয়ে একমত হবে না। কিন্তু এটাকে বড় করে জাতিকে বিভক্ত করা ঠিক নয়। মৌলিক ১২টি বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, বাকি বিষয়ে সরকার দায়িত্ব নেবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমি আশা করি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে কেউ আর অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। আমাদের শিশুদের আর কোনোদিন এমনভাবে প্রাণ দিতে হবে না।”

প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “এই এক বছরে অনেক কাজ হয়েছে, সংস্কারের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।”

Share.
Exit mobile version