অন্তর্বর্তী সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে গুরুতর সংকটে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এসব ভুল সিদ্ধান্ত ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ এবং মৌলবাদের উত্থানের পথ সুগম করতে পারে।
ঢাকার আশুলিয়ার শ্রীপুরে দারুল ইহসান মাদরাসা মাঠে বুধবার (৩০ জুলাই) বিএনপির ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণআন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় নিহতদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই সময় শহীদদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, “জনগণ এই অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিল এই আশায় যে, তারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কেউ কেউ সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অন্য পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যূত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো ছায়ায় লুকিয়ে আছে। তারা সরকারের যেকোনো ভুল সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ফায়দা হিসেবে ব্যবহার করে ফিরে আসার সুযোগ খুঁজছে। এই বাস্তবতায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিচক্ষণ, দায়িত্বশীল ও গণতন্ত্ররক্ষার অনুরূপ হওয়া উচিত।”
এ সময় তিনি নির্বাচনী অগ্রাধিকার নির্ধারণে সরকারের যথাযথ প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে মতবিরোধ থাকতেই পারে, তবে তা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত না করে। অপ্রয়োজনীয় বিরোধিতা কিংবা বিভাজন ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার প্রত্যাবর্তন’কে সহজ করে দিতে পারে।”
তিনি সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ফখরুল বলেন, “এই মুহূর্তে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, যাতে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা যায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে এখন পর্যন্ত গণআন্দোলনের সময় নিহত ও আহতদের পরিবার যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়নি। এ প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি।
ফখরুল বলেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা যে নৃশংসতা চালিয়েছেন—বিশেষ করে ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে—তার জন্য একদিন তাকে জবাবদিহি করতে হবে।”

